সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

নিমাইকে ঘিরে কিছু প্রশ্ন

সময়টা তখনও দুপুর হয়নি,কৃষক নিমাইকে উষ্কখুষ্ক অবস্থায় মাঠে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কেউ হয়তো তাকে খেয়াল করছে, কেউ হয়তো করছে না। নিমাইয়ের পাশের ক্ষেতে চাষীরা কাজ করছে। এমন কর্মব্যস্ত দিনে নিমাইকে গালে হাত দিয়ে আকাশ পানে চেয়ে থাকতে দেখে কারো মনে হয়তো প্রশ্ন জাগছে, কারো হয়তো জাগছে না। পাশের ক্ষেতগুলোতে   কাজ করছে ভূমিহীন বর্গাচাষী ইদ্রিছ মিয়া,দীর্ঘদেহী সোলায়মান আর প্রাণেশ। তারা কেউ কেউ নিমাইয়ের কুশল জিজ্ঞাসা করে, কেউ করেনা।  নিমাই একজন বর্গাচাষী এবং অবশ্যই অস্বচ্ছল। অভাব অনটন যে তার এবং তার জাতের নিত্যসঙ্গী তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্গাচাষীদের নিজের জমি থাকে না,অন্যের জমিতে তারা চাষ করে বিনিময়ে অর্ধেক অথবা তিন ভাগের এক ভাগ ফসল পায় এবং তা দিয়ে তাদের সারা বছরের অভাব কোনক্রমেই ঘুচে না। তাদের বছর বছর বংশ বৃদ্ধি পায়, প্রবীন একজনের হয়তো মৃত্যু হয়,যুবক আর কিশোরীদের বিয়ে হয়,যুবতী বোন হয়তো স্বামী পরিত্যাক্তা হয় কিন্তু তিন অক্ষরের অভাবটাই ঘুচে না।   নিমাইয়ের ঘরে স্বাভাবিকভাবেই হোক অথবা বাধ্য হয়েই হোক এক বউ। মুসলমান হলেও সে দুই অথবা তিন বউ রাখতে পারত না। এর জন্য আর্থিক সঙ্গতি...

অনুতাপ- ১

আমার ঘরের জানালায় একদল মেঘ আসে ওরা যাত্রাবিরতী করে জানালার কার্ণিশে কথা বলে,গল্প করে আমাকে শোনায় ওদের পিছনের কথা, কতটুকু পথ পেরিয়ে এল; সে কথা। যুবক মেঘ আমায় ডেকে নিমন্ত্রন দেয়- ওদের সাথে চলবার। আমি গাঢ় হাসি দেই ওদের চলবার,ভেসে যাওয়ার গল্প শুনি আমার কাছে ওরা পঙ্খীরাজে চড়া রাজপুত্তুর। আমি ঘরের দেয়ালে ওদের কাব্য লিখে দেই আরো লিখে দেই- ‘আমিও যেতে চাই মেঘদলের সাথে মেঘকন্যার সাথে,ঐ যুবকটার সাথে’ কিন্তু যেতে পারিনা,পারবনা। আমাকে কে যেন ধরে রাখে মনে হয়,কেউ যেন ডানা দিয়ে আঁটকাচ্ছে আমি বাঁধনহারা হইনা তবুও হয়তো বেসেছি ভাল অদৃশ্য শেকলটাকে কিংবা রাঙা মুখ,সুতি শাড়ির আঁচল।

মধ্যযুগের আধুনিক শব্দ সৈনিক-তোমাদের অভিবাদন !

আমরা সাফল্যের সাথে পৌঁছে গিয়েছি মধ্যযুগে আধুনিকতার পোষাক পড়ে। যেখানে ল্যাপটপ-ডেস্কটপের সাথে ছবি মাথা নিচু শব্দ সন্ত্রাসী। আমরা খুঁজে পেয়েছি অনেক অনেক অস্ত্র আগে অস্ত্র বলতে বুঝাতাম রামদা-চাপাতি কিংবা কালাশনিকভ এখন অস্ত্র মানে এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক , কিউবির মোডেম। মাথা নিচু শব্দ সৈনিক। মাথা থেঁতলে দিল যারা পুলিশের তারা ধরা পড়ল না। পুলিশের রেশন বাড়ানো উচিত এমন চিন্তাকারী ভয়ে উঠে যায় ডিবি ' র মাইক্রোতে। ধরা পড়লনা বাসে যে আগুন লাগালো ধরা পড়ল সুব্রত শুভ সমস্ত অশুভ শব্দ উচ্চারণকারী বিপ্লবদা , জানি উঁনি সদ্যবিবাহিত। মধ্যযুগে এখন আমরা পাথর ঘষি নিঃশঙ্কচে মেরে ফেলি আপন প্রজাতির বাইসন ঘরে এনে পুষতে থাকি গন্ধে ভরা কতগুলো শেয়াল। কবির খাতা কবি বেঁচে দিবে সুব্রতের ল্যাপটপ সুব্রত বেঁচে দিবে আরজ আলি মাতুব্বর সব বই জ্বালিয়ে দিবে আমরা ঘুমাবো অবার্চীনের মত , তুমি পাহারা দিও , গড়ে তোল স্বপ্নের পাক ভূমি। 3 April 2013

পঙ্গু রাষ্ট্রের পঙ্গু শত্রু

“ ঝালকাঠীতে র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে পা হারানো কলেজছাত্র লিমন হোসেনের বাবা ,মা ও ভাইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন র‌্যাবের সোর্স হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম হাওলাদার। বৃহস্পতিবার ঝালকাঠী জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে করা এই মামলায় ইব্রাহিম তার শ্যালক ফোরকান হাওলাদারকে হত্যার অভিযোগ এনেছেন, যিনি তিন দিন আগে মারা যান। মামলায় লিমনের বাবা তোফাজ্জেল আকন, মা হেনোয়ারা বেগম ও বড় ভাই সুমন আকনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ঈদের দিন বিকালে লিমন ও তার মায়ের ওপর হামলার অভিযোগে ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাজাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন হেনোয়ারা বেগম। ওই হামলার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে ইব্রাহিমের শ্যালক ফোরকানের (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। তার লাশের ময়নাতদন্তও হয়েছে। লিমনের ভাই ও তার আত্মীয়-স্বজনদের হামলায় ফোরকান মারা গেছেন দাবি করে ইব্রাহিমের স্ত্রী লিলি বেগম মঙ্গলবার থানায় একটি অভিযোগ করলেও পুলিশ তা অপমৃত্যু মামলা হিসাবে গ্রহণ করে।”                    ...

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়াঃ বর্তমান সমাজের দর্পন | উন্মোচন

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়াঃ বর্তমান সমাজের দর্পন | উন্মোচন

আমার গল্প

আমি একটা গল্প লিখব, যে গল্পে রাজা না খেয়ে মরবে চাষা গোলায় ধান ভরেনি বলে। আমি একটা গল্প লিখব, যে গল্পে রানী গর্ভবতী হবে কিন্তু তার ছেলে যুবরাজ হবে না। আমি একটা গল্প লিখব, যে গল্পে মিথ থাকবে,বায়োস্কোপ থাকবে কিন্তু মিথ্যাচার রবে না। আমি একটা গল্প লিখব, যে গল্পে তরুণী নগ্ন হয়ে পথে নামবে কিন্তু ধর্ষিতা হবে না। এমন একটা গল্প,এমন একটা গল্প লিখব যার পাঠকেরা হাঁটবে ঘোর লাগা পথে। আমি একটা শহর বানাবো,যে শহরে বিজলী বাতি থাকবে না কিন্তু আলোকিত হবে হাজার   মানুষ দ্বারা। আমি একটি যুদ্ধ সাজাবো, রণকৌশলে কেউ যাবে না মারা। মানুষের সাথে মানুষ হাঁটবে,নরের সাথে নারী মতামতে অমত হলেও কেউ নেবে না আড়ি। আমি একটা মিছিলে স্লোগান দেব,যে মিছিলে থাকবে না কোন দাবী। শুধু পুষ্প ঝরবে স্লোগানকারীদের মুখ থেকে, মিছিলে যোগ দিবে সব পাপমোচনকারী পাপী। আমি একটি নৌকা ভাসাবো, যে নৌকা ঝড়ে পড়লে মাঝি হবে সব যাত্রী। হাত গুটিয়ে , পা গুটিয়ে কাটাবেনা কেউ রাত্রী । বিষাদমুখ,বিষন্নমুখ রবে না নাগরিকের। আজকেই   হয়তো হবে না   সে গল্প লেখা, কাজ বাকী আগামীদিনের। -     ...

কথা, ইচ্ছা আর স্খলনের গল্প

কিছু কাজ করার ছিল, কিছু কথা বলার ছিল। ছিল ইচ্ছা রিমঝিম বৃষ্টিতে হাঁটার। ক্লান্ত চোখ যখন ঘুমে আক্রান্ত তখন কথা ছিল ভালবাসার। জীবন যখন ভারাক্রান্ত; তখন কথা ছিল আরো ভার বওয়ার। দিগন্তের শেষ প্রান্তে কথা ছিল হারিয়ে যাওয়ার। স্তব্ধ নিঃশ্বাস গুনে গুনে রাখার কথা ছিল অথবা মধ্যরাতের আকাশের সবগুলো তারা। ইচ্ছা ছিল নিজের প্রতিবিম্ব আর মাগুর মাছের ঝোলে ফিরে পাওয়া হারানো আমিকে। মাটির সোদা গন্ধ নেওয়ারও ইচ্ছা ছিল সাথে কথা ছিল নগ্ন পায়ে হাঁটা তোমার হাত ধরে। আয়নার মানুষটার সাথে নিজের মিল খোঁজা, ছিলনা কাপুরুষ অন্ধকারে হাতরে বেড়ানোর গল্প। অ-কবির কবি হওয়ার মতোই আমার মানুষ হবার আকাঙ্খা। ২১/০৭/১১