সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

দক্ষিণ মৈশুন্ডি কিংবা ভূতের গলিতে আমরা কয়েকজন একা একা মানবেরা (5)

৫। ভাদাইম্যা মিজান শেফালিকে দূর থেকে দেখে মকবুলের মা , কাছে আসতেই বলে -‘ উদলা হয়া গেছিলা কই ? মাইয়্যা মানুস ঘোমটা ছাড়া ঘর থন বাইর হয় নিকি ?’ শেফালি বিব্রত হয় , ভুলে যায় শাশুড়ির কথা । মকবুলের মা বলে উঠে -‘ তোমার চলন বলন আরো ঠিক কর বউ , আমার পোলা সামনের বছর হজ্বে যাইব নিয়ত করছে , হাজ্বি সাবের বিবি তুমি , ঠিক কইছি না !’ শেফালি ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেয় । আসলেই শেফালি তো এখন সাহেরা আপার বান্ধা কাজের মেয়ে না , এই বাড়ির বউ । মকবুল এই এলাকার নামিদামি মানুষদের একজন । সে প্রথম প্রথম বুঝতে পারে নাই , এখন যখন আসে পাশে যায় , প্রতিবেশিদের সাথে মিশে তখন জানতে পারে সবাই , বিশেষ করে কসাইভিটা , লালবাগ , জিঞ্জিরা এলাকার লোক মকবুলকে কত মান্য করে । কসাইভিটার প্রত্যেক ঘরে ঘরে মকবুলের কৃতজ্ঞতার জন্য দোয়া করা হয় , ঘরে ঘরে মকবুলের দেয়া কিছু না কিছু থাকে । শেফালি শুনে আর অবাক হয় , নিজেকে ভাগ্যবান ভাবে । আমি ভাদাইম্যা মিজান , সারাদিন টো টো কইরা ঘুরি দেইখা আমার এই নাম । পুরা দক্ষিণ মৈশুন্ডি আর ভূতের গলিতে আমারে সবাই চিনে এই নামে । আমার এই নামের পেছনে যদিও কোন তাৎপর্য নাই কিন্তু তারপরও লোকে ব্যাখ্য...

ইন্দুর বিলাইয়ের গল্প

লেখালেখিকে যতটা সহজ ভাবা হয় আসলে তা ততো সহজ নয়। রাইটার্স ব্লক কয়েক দিন , কয়েক মাস , এমনকি কয়েক বছরও যেতে পারে। আবার এমনো হতে পারে এই জীবনে আর লেখা হবে না। ঠিক তেমনটাই হয়েছিল আজিজুল রহীমের সাথে। আমাদের জানামতে আজিজুল রহীম তার ডায়েরীতে সর্বশেষ লিখেছিলেন ১৯৯৭ এ। তখন তার বয়স বত্রিশ। সবে একটি নতুন চাকরিতে প্রবেশ করেছেন কয়েক বছরের পুরোনো পত্রিকা অফিস রেখে। একটি মাঝারি মানের প্রেসের ব্যবস্থাপক হিসেবে। সাড়ে চার বছরের অনিয়মতান্ত্রিক চাকরি ছেড়ে ৯ - ৫ টা অফিস আর শুক্রবার বন্ধ। এ যেন এক বন্দীশালা। তবুও ঠিকঠাক চলছিল ব্যস্ত জীবন আর সংসারের চাপে একটা আলাদিনের জ্বীন ভর করেছিল আজিজুল রহীমের কাঁধে।   আজিজুল রহীম তাঁর এনায়েতগঞ্জের বাসা ছেড়ে উঠেন সেগুনবাগিচায়। নতুন বাসাতে ওঠার পর থেকেই নতুন কিছু উৎপাত শুরু হতে থাকে। এক নম্বর সমস্যা হল ইঁদুর। এবং এই ইঁদুরগুলো সম্ভবত এনায়েতগঞ্জের সেই পুরোনো বাসারই পুরোনো সঙ্গী। আজিজুল রহীম রাত বারটায় যখনই শোয়ার জন্য মশারীর ভেতর ঢুকেন তখনই ইঁদুরগুলা তাঁর তোষক আর খাটের তল দিয়া নড়াচড়া করতে শুরু করে। আর এতে আজিজুল রহীম সাহেবের ঘুমাতে ঘুমাতে রাত তিনটা - চারটা বাজে।...

দক্ষিণ মৈশুন্দি কিংবা ভূতের গলিতে মোহাম্মদ শহীদুল হক সাবের সাথে (4)

৪। মকবুল কসাইভিটা জামে মসজিদ থেকে জুম্মার নামাজ পড়ে মকবুল বাড়ির দিকে রওনা দেয়, পথিমধ্যে একটা ভ্যানগাড়ি থেকে ‘শরিফা’ কিনে নেয় নতুন বউয়ের জন্য। মকবুল শেপালির ব্যবহারে মুগ্ধ, যেমন রান্না তেমন তার কন্ঠ। মকবুল ভাত খাইতে খাইতে শেপালিরে বলে একটা গান শুনাতে, শেপালি গান শুনায়- তুমি বন্ধু আর এলেনা বিচ্ছেদের পরে, আমি ছিলাম পা ডুবায়ে মাঝ দরিয়াতে, তুমি ছিলা ভিনদেশি তাই খুইজা পাইলাম না, আমি কান্দি দিবা নিশি , কান্দন থামেনা। মকবুল ভাইবা পায় না এই গান সে কোথায় শুনছে নাকি কোনদিনই শুনে নায়,আজই প্রথম। -বউ তুই ভাল গান গাছ, কই হিকছস? শেপালি লজ্জা পায়, শেপালি ভাবে এই গান তার শাশুড়ি পাশের ঘর থিকা শুনলে তারে কিনা কি বলবে ! সে যেহেতু নতুন বউ তাই তাকে আরও কিছুদিন লজ্জা শরম মাইনা চলতে হবে এবং মাথা থিকা ঘোমটা ফালানো যাবেনা, এমনটাই হুকুম শাশুড়ির। মকবুলের মা কড়া মহিলা, মকবুলের বাপ মারা যাওয়ার পর দুই সন্তানকে উনি মানুষ বানাইছেন, মেয়ে এখন বিয়া কইরা স্বামী সোহাগি, ছেলেরে মাত্র বিয়া করাইছেন, বউ মাশাল্লাহ সুন্দরি, গরিব ঘরের, তাতে আরো ভাল হইছে। কথা শুনে, গোলামের স্বভাব একদিকে ভাল, তারা আদব ল্যাহাজ মাইনা চল...

জয়িষ্ণু

আমি কি এই  'আমি' হতে চেয়েছিলাম, নাকি চেয়েছিলাম খোলা আকাশ হতে কিংবা চানাচুরওয়ালা, নিদেনপক্ষে জয়িষ্ণু হতে। জয়িষ্ণু পাল, ক্লাস ফাইভ, একা একা স্কুলে আসত, পাঁচিল টপকাত,স্কুল পালাত। আমি পারিনি কোনদিন জয়িষ্ণু হতে, জয়িষ্ণু পারেনি হতে আমার মত। টিফিনে হাডুডু, বৃষ্টিতে ফুটবল, জয়িষ্ণু সব পারত। আমি বড়জোর বারান্দায় দাঁড়াতাম দু দন্ড। আমার পা কাঁপত, আমার বুক কাঁপত। জয়িষ্ণু ডাকত, বন্ধুরা ডাকত, আমি যাইনি,আমি পারিনি। জয়িষ্ণু অংক পারত, ভাল ইংরেজি। 'চল দৌড় লাগাই, স্কুল পলাই', আমি না করতাম, আমার বুক কাঁপত আমার হাত কাঁপত, জয়িষ্ণু স্বাধীন ছিল। আমি চাকুরে, আমি পাথুরে। আমি পারিনি আমাকে ছাড়াতে।

বায়োস্কোপ

বেপরোয়া  রাজপথ , দেয়ালে পোস্টার, মাঝরাতের আধোঘুম শহর। আমাদের নাগরিক প্রেম ইট-সিমেন্টের দেয়াল তুলে মন ঘরে।  মাঝরাতের দেয়াল লিখন, সকালের মিছিল, দিনশেষে ক্লান্ত পা, লাল রঙের স্বপ্ন দেখে। আমাদের কংক্রিট শহরে সময় মাপা। যারা বাম জানালায় বায়োস্কোপ দেখাত তারা ডানে দরজা খুলে, কাশী-গয়ায় পূণ্যস্নান শেষে দিন দুপুরে সিনেমা দেখতে বসে। মানবিক রাষ্ট্রের গণতন্ত্র সৈরাচারী হয়ে যায়, পল্টন ময়দান খা খা করে, বসার ঘরে সমাবেশ- সাংবাদিক সম্মেলন আর দেশ বাঁচাও পরে।  কোন এক মানব সারাদিন গাছ আর বন বাঁচায়, তাকেও কোনদিন রাষ্ট্রদানব  আঁটকে ফেলে বদ্ধ ঘরে, মুখে কাপড় গুজে দেয়। আমাদের সময়ের নিয়তি বেসুরো কিংবা আমাদের মানবেরা অসুর। সিনেমার নাম করে নাটক দেখি আর গলায় পেঁচাই সাপ।