সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

বায়োস্কোপ

বেপরোয়া  রাজপথ , দেয়ালে পোস্টার, মাঝরাতের আধোঘুম শহর। আমাদের নাগরিক প্রেম ইট-সিমেন্টের দেয়াল তুলে মন ঘরে।  মাঝরাতের দেয়াল লিখন, সকালের মিছিল, দিনশেষে ক্লান্ত পা, লাল রঙের স্বপ্ন দেখে। আমাদের কংক্রিট শহরে সময় মাপা। যারা বাম জানালায় বায়োস্কোপ দেখাত তারা ডানে দরজা খুলে, কাশী-গয়ায় পূণ্যস্নান শেষে দিন দুপুরে সিনেমা দেখতে বসে। মানবিক রাষ্ট্রের গণতন্ত্র সৈরাচারী হয়ে যায়, পল্টন ময়দান খা খা করে, বসার ঘরে সমাবেশ- সাংবাদিক সম্মেলন আর দেশ বাঁচাও পরে।  কোন এক মানব সারাদিন গাছ আর বন বাঁচায়, তাকেও কোনদিন রাষ্ট্রদানব  আঁটকে ফেলে বদ্ধ ঘরে, মুখে কাপড় গুজে দেয়। আমাদের সময়ের নিয়তি বেসুরো কিংবা আমাদের মানবেরা অসুর। সিনেমার নাম করে নাটক দেখি আর গলায় পেঁচাই সাপ।     

আমাদের ব্যক্তিগত দুঃখ

আমরা যার যার ব্যক্তিগত দুঃখ আড়াল করি, 'আড়ালের' আড়ালে করি হাসাহাসি, তুমি যাও অন্য প্রান্তে, পাঁচিল টপকে অন্যকারো সাথে করো ভালবাসাবাসি। তুমি এসেছিলে শুনে ভাল লাগল। আমরা হেঁটেছিলাম কিছু দূর, একসাথে,কিন্তু আলাদা পথে। তুমি গিয়েছিলে বাড়ি,আমি অচিনপুর। আমরা সারারাত জাগতাম,ভাবতাম মহাকালের গল্প তুমি ছিলে অন্ধকারে, আমার ঘরে আলো জ্বলত দিনশেষে। হই হুল্লোর, মিছিলের পরে ক্লান্ত- আমি শোনাতাম বিরহগাঁথা,তবুও তা ছিল অল্প। আমার ব্যক্তিগত দুঃখ আর্জেন্টিনা হয়ে কিউবা কখনো কাশ্মীর ভ্রমন করত, তোমার ইশ করা আফসোসগুলো হয়তো বদ্ধ ঘরেই পায়চারা করত। তোমার ব্যক্তিগত দুঃখ ছিল দ্বন্দ্বমূলক, আমারটা বৈজ্ঞানিক যৌথ খামার। দিনশেষে ফসল ফলাতাম সবশেষের ভুল শোধরাতাম। পড়ন্ত বিকেলের আবছা রোদ হয়ে হয়তো তোমার গালে পড়া হতো না, তবে তাতে কি , রাস্তার নিচু সারির সামান্য লোকেরা ভয় কি পেতে পারেনা! মাঝদুপুরে কবিতা লিখতাম, লিখতাম হাহাকার ভরদুপুরের স্লোগান ছিল , ছিল অনাহার। তবুও আমরা আলাপ করতাম আমাদের ব্যক্তিগত দুঃখে, বলিভিয়া থেকে সোভিয়েত হয়ে জমত কান্না বুকে। আমাদের ব্যক্তিগত সৈকত ছিল, মাছেরা স্নান...

বিষন্ন দেয়াল

তোমার বিষন্ন দেয়ালে আমি জানালা তুলতে বলেছিলাম, জানালার ফাঁক দিয়ে আলো আসবে,তাও জানিয়েছিলাম। তুমি দেয়ালটাই ভেঙে দিলে! তোমার উঠোনে শাড়ি মেলা ছিল, আমার হাতে ছিল লাল ঘুড়ি, তোমার ভাঙা দেয়ালে যে এখনো স্বপ্ন মুড়ি। নিয়ন আলো জ্বলে,ঘুমিয়ে থাকা রাস্তায়, তোমার উঠোনে কালকের মেলা শাড়ি, শুকিয়ে আবার ভিজে যায়। পরশুর চলে যাওয়া মেঘ ঘুরেফিরে আসে, তোমার ঝালাই করা শেকলে আমি আঁচড় কাটি। ব্যতিব্যস্ত জনপদে এখনো নানা জায়গায় দেয়াল তোলা, অন্য কারো আঁচড়ে তোমার শরীর রক্তাক্ত হয়। আমার হাতের লাল ঘুরি ছিড়ে পড়ে যায়, মাটিতে পড়ে থাকা নাটাই আমি তুলি না। 

দক্ষিণ মৈশুন্দি কিংবা ভূতের গলিতে মোহাম্মদ শহীদুল হক সাবের সাথে (3)

কোথায় পাব তারে  মোহাম্মদ শহীদুল হক সাব ৯-৫টা চাকরি করেন। ৫টার একমিনিটও বেশি সময় তিনি অফিসে দিতে চান না,যদিনা কেউ তার বিপরীত পাশের চেয়ারে বসে না থাকে। উঁনার বিভাগের উঁনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ায় কাজের গতি ও সময় নির্ধারণ উঁনার হাতেই বর্তায়। আমরা বলতে পারি এই ৯-৫টার মধ্যকার এক ঘন্টা সময়ও উঁনি নষ্ট করেন না, বাইরের অনাকাঙ্খিত কেউ আসলে প্রবেশমুখে পিওন আঁটকে দেয়, বলে দেয় স্যার অফিসে নেই। এটা মোহাম্মদ শহীদুল হক সাব ইচ্ছা করেই করেন; না বলে আমরা বলতে পারি এটা তার অভিজ্ঞতা ও পেশা গত দক্ষতা যে উঁনি উটকো লোক এড়িয়ে চলতে পারেন, আর যেহেতু সরকারি চাকরি তাই এখানে ভোক্তা সন্তুষ্টি বা আম জনতার সাথে সম্পর্ক রাখারও কিছু নেই, প্রাইভেট কোম্পানিতে যেভাবে ক্লায়েন্ট সার্ভিস বা অন্যান্য যোগাযোগ মেনে চলার একটা দায় বর্তায়, সরকারি চাকরিতে এসব থাকে না। প্রতি সোম  আর বুধবার মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে বিভাগীয় প্রধান, সচিবসহ অন্যান্যরা মিটিং করেন রুটিন অনুযায়ী।  মোহাম্মদ শহীদুল হক সাব সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে তাঁর পিতৃ নিবাসে চলে যান, এখানে উঁনি আর কাজের লোক শাহ আলম ছাড়া কেউ থাকে না, শাহ আলম উঁনার ব্যক্তিগত...

দক্ষিণ মৈশুন্দি কিংবা ভূতের গলিতে মোহাম্মদ শহীদুল হক সাবের সাথে (2)

                          পর্ব ২- শেপালি মোহাম্মদ শহীদুল হক সাবের সাথে আমার কিংবা আমাদের পরিচয়ের প্রথম পর্বে শেফালির বিয়ে হয়ে যায়। আবার আমাদের সিদ্ধান্তেও আশা যাবেনা যে শেফালির বিয়ে হয়েছে , ওর তো বিয়ে হবার কথা ছিল, বিয়ে হয়েছিল কিনা সেটা আমরা এই গল্পের শেষে জানতে পারব , হয়তোবা পারবনা। আমরা কেউ শেফালির গ্রামের বাড়ির ঠিকানা না জানাতে ওর বিয়েতে উপস্থিত হতে পারিনি ব্যাপারটা আসলে এমন নয়, শেফালি কিংবা শেফালির বাবা আমাদের কাউকেই বলে যায়নি অথবা বিয়ের দাওয়াত আমরা পাইনি।  ভেজা হাত ধরতে ধরতে হঠাৎ একদিন আর জানালা খুলতে না পেরে আমি বুঝতে পারলাম হয়তো খুব ভোরেই শেফালি বাড়ি ছেড়েছে,শুধু জানতে পাইনি কিংবা জানতে পেরেও আমি পরেরদিন আমার নির্ধারিত সময়ে জানালায় হাত দেয়ার পরক্ষণেই এলাকার দোকানদার মন্ডল জানালো -'শেপালি তো গেছেগা, আন্ধার কাটোনের আগ দিয়াই গেছেগা'। আমি আগে থেকে জানতাম এমন ভাব করে বললাম-'হ, কইতাছিল যাইবগা, অর বাপে নিহি আইছিল, বুইড়া কইছে ওরে যেন না বিছড়াই'। মন্ডল আমার কথা বিশ্বাস করলো কী করলো না তার অপেক্ষায় না থেকে আমি পা বা...

দক্ষিণ মৈশুন্দি কিংবা ভূতের গলিতে মোহাম্মদ শহীদুল হক সাবের সাথে

পর্ব ১-  ডাল অথবা আলু কিংবা ক্ষেতা পুরি মোহাম্মদ শহীদুল হক ওরফে শহীদুল জহির সাবের সাথে আমার পরিচয় ভূতের গলিতে। এটাকে পরিচয় না বলে বলা ভাল প্রথম সাক্ষাত। আমি ওঁনারে রোজ দেখতাম গলির মোড়ে সন্ধ্যাবেলা চা খাইতে। উঁনি রং চা খাইতেন না দুধ চা খাইতেন কিংবা চায়ে চিনি খাইতেন কিংবা খাইতেন না তা তখন পর্যন্ত আমার জানা হয় নাই অথবা জানার সুযোগ হয় নাই। আমি সন্ধ্যাবেলা গলির মুখে যাইতাম শেফালির সাথে দেখা করতে, সে তখন তাদের পাকঘরের জানালা খুইলা তার মালকিন আর সাহেবের জন্য চা বসাইত। আমি পাকঘরের জানালা দিয়া ফুচকি মারতাম, কখনো কখনো নিরিবিলি গলি মাগরিবের আজানের কারণে ব্যস্ত হয়ে উঠত,মুসল্লিরা টুপি পড়তে পড়তে আমাকে প্রশ্ন করত- ‘কি মিয়া নামাজে যাইবা না’? তারা আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই দ্রুত পা বাড়াত। কোন কোন দিন আমি জবাব দিতাম – ‘হ, আইতাছি, নামাজ তো পড়ন লাগব’। শিক দেয়া জানালার ফাঁক দিয়ে আমি শেফালির পানি ধরা ভেজা হাত ধরতাম, কখনো কখনো সেই হাতে সাবান লেগে থাকত, আমি লুঙ্গিতে মুঁছে ফেললতাম সাবান, আবার তার হাত ধরতাম যতক্ষণ না চুলায় চায়ের পানি শুকিয়ে না যেত। কোন কোন দিন মালকিন সাহেরা আপার চিৎকার আসত- অতক...

অতীত

হয়তো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়ুয়া কমরেডটি  সিভির ফাইল নিয়ে ঘুরতে  থমকে দাঁড়াবে কর্পোরেটের বেশ্যালয়ে মাল্টিন্যাশনাল কফি'র কাপে চুমুক দিতে দিতে ১৫ তলার জানালা দি য়ে তাকাবে হয়তো তখন সেই রাজপথ দিয়ে অতিক্রম করবে পুরনো কমরেডগণ, দাবি জানিয়ে যাবে অধিকারের। তখন সাউন্ড প্রুফ ঘরে কফির কাপে চুমুক দেয়া সাবেক কমরেড ভাববে- 'জীবন অনেক শান্তির, এখানেই শান্তি, এখানেই জান্নাত'।