সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আমার গল্প

আমি একটা গল্প লিখব, যে গল্পে রাজা না খেয়ে মরবে চাষা গোলায় ধান ভরেনি বলে। আমি একটা গল্প লিখব, যে গল্পে রানী গর্ভবতী হবে কিন্তু তার ছেলে যুবরাজ হবে না। আমি একটা গল্প লিখব, যে গল্পে মিথ থাকবে,বায়োস্কোপ থাকবে কিন্তু মিথ্যাচার রবে না। আমি একটা গল্প লিখব, যে গল্পে তরুণী নগ্ন হয়ে পথে নামবে কিন্তু ধর্ষিতা হবে না। এমন একটা গল্প,এমন একটা গল্প লিখব যার পাঠকেরা হাঁটবে ঘোর লাগা পথে। আমি একটা শহর বানাবো,যে শহরে বিজলী বাতি থাকবে না কিন্তু আলোকিত হবে হাজার   মানুষ দ্বারা। আমি একটি যুদ্ধ সাজাবো, রণকৌশলে কেউ যাবে না মারা। মানুষের সাথে মানুষ হাঁটবে,নরের সাথে নারী মতামতে অমত হলেও কেউ নেবে না আড়ি। আমি একটা মিছিলে স্লোগান দেব,যে মিছিলে থাকবে না কোন দাবী। শুধু পুষ্প ঝরবে স্লোগানকারীদের মুখ থেকে, মিছিলে যোগ দিবে সব পাপমোচনকারী পাপী। আমি একটি নৌকা ভাসাবো, যে নৌকা ঝড়ে পড়লে মাঝি হবে সব যাত্রী। হাত গুটিয়ে , পা গুটিয়ে কাটাবেনা কেউ রাত্রী । বিষাদমুখ,বিষন্নমুখ রবে না নাগরিকের। আজকেই   হয়তো হবে না   সে গল্প লেখা, কাজ বাকী আগামীদিনের। -     ...

কথা, ইচ্ছা আর স্খলনের গল্প

কিছু কাজ করার ছিল, কিছু কথা বলার ছিল। ছিল ইচ্ছা রিমঝিম বৃষ্টিতে হাঁটার। ক্লান্ত চোখ যখন ঘুমে আক্রান্ত তখন কথা ছিল ভালবাসার। জীবন যখন ভারাক্রান্ত; তখন কথা ছিল আরো ভার বওয়ার। দিগন্তের শেষ প্রান্তে কথা ছিল হারিয়ে যাওয়ার। স্তব্ধ নিঃশ্বাস গুনে গুনে রাখার কথা ছিল অথবা মধ্যরাতের আকাশের সবগুলো তারা। ইচ্ছা ছিল নিজের প্রতিবিম্ব আর মাগুর মাছের ঝোলে ফিরে পাওয়া হারানো আমিকে। মাটির সোদা গন্ধ নেওয়ারও ইচ্ছা ছিল সাথে কথা ছিল নগ্ন পায়ে হাঁটা তোমার হাত ধরে। আয়নার মানুষটার সাথে নিজের মিল খোঁজা, ছিলনা কাপুরুষ অন্ধকারে হাতরে বেড়ানোর গল্প। অ-কবির কবি হওয়ার মতোই আমার মানুষ হবার আকাঙ্খা। ২১/০৭/১১

তোমাকে উৎসর্গ

ইচ্ছে করে তোমায় নিয়ে হাজার হাজার কবিতা লিখি তারপর সেগুলো বের হবে সমগ্র আকারে- “ তুমি সমগ্র ” অথবা “ ভালবাসার সহস্র কথন নামে ” । জানি আমার কবিতা তোমার গা ছুঁয়ে যায় । আমার কবিতাগুলো তোমার সাথে সঙ্গম করে, তোমাকে নগ্ন করা লাগে না বিন্দুমাত্র । কবিতার প্রতিটা লাইন তোমার কপালে টিপ পড়িয়ে দেয় নানারকম আর প্যারাগুলো ঠিক তোমার বুকের মতোই পাগলকরা । আমার কবিতাগুলো হেঁটে হেঁটে যাবে তোমার বাবার কাছে- দখলদারিত্বের পয়গাম নিয়ে, “ আপনার মেয়েকে দখল করতে চায় এই নাগরিক কবি ” ! হাহাহাহা – তোমার বাবার মলিন মুখ ভেবে হাসি পাচ্ছে। ভালবাসার সংজ্ঞা দেয়ার মতো কাঠখোট্টা আমি নই, তোমাকে শেখাব হাতে-কলমে , গভীর রাতে আর গ্লাস ভর্তি ভদকায়। নেশায় চুরচুর হয়ে তোমায় ভালবাসা শেখাব যদিও জানি তুমি ভালবাসার ষোল কলাই জান। তাও কেন জানি শেখাতে ইচ্ছা হয়! আসলে ঐটাতো কাছে পাবারই অজুহাত।

নিষিদ্ধ দেশপ্রেম / সায়েম চৌধুরী

নীলাভ,দুগ্ধ ফেনিত আকাশে কালো মেঘের দাপট কালোর দাপটে গমগম করে ওঠে আকাশ, চিৎকার করে মেঘরাজি। রাজপথে ব্যস্ত ও বিলাসী গাড়ি, কালো পিচে রক্তের ছোঁপছোঁপ দাগ একটু আগে পোঁড়ানো কুশপুতুল । বাউলের ক্ষেতের আল দিয়ে হেঁটে বেড়ানো সেখানে অনাদর,কান্না আর ক্ষোভের চাদর বিছানো। পাঠশালায় শিশুদের নিষ্পাপ স্বর-অ আ ক খ আর পেছনে হাঁটা শিক্ষা মন্ত্রনালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষার বুলি ও পিপিপির মর্যাদা অতঃপর কয়েকটি মিছিল,আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ । ভিসি মহোদয়ের এক চোখ বোঁজা এবং ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের রাজত্ব । বিশবিদ্যালয়ে প্রেসক্লাবের অপ্রয়োজনীয়তা বোঝার পর ছাত্র বহিষ্কার । মানচিত্রের চারপাশে ফেলানীর ঝুলন্ত লাশ রাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা শোনায় পিতৃত্ব অস্বীকারকারী বাবার মতোই । প্রতিবেশীর ক্ষমা ও বুদ্ধিজীবীর কালি হ্রাস। নিরাপত্তা বাহিনীর শত্রু চিহ্নিতকরণ দরিদ্র কলেজছাত্রের পঙ্গুত্ববরণ । এরপর মশা মারতে কামানের দৃশ্য। রাষ্ট্রের মেরুদন্ডে ব্যাথা গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া- রাষ্ট্রের ধর্ম ‘ ইসলাম ’ ও সংবিধানের জারজ সন্তান ‘ বিসমিল্লাহ ’ সাথে আরো কয়েকজন ‘ সং ’ শাসক...

সময়ের স্বাদ

বিকালের হাওয়া আর কৃষ্ণচূড়ার সাথে সবুজ, কিছু কালো স্মৃতি,হলুদ পাখিটার সাথে রাগারাগি এবং গাছের ফাঁক দিয়ে দেখা দিগন্ত । পাশের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া কোন লোক অথবা সুগন্ধিযুক্ত রমণী । নাকে আসে না আর । লাগে না চোখে; কিছুই । চায়ের কাপে তেতো স্বাদ, পাকোড়ায় অতি লবন, ঠিক যেন এই সময়টার মতো- বন্ধ্যা,উদ্ভ্রান্ত,অন্ধ অথবা সংজ্ঞাহীন । ০৯/০৫ সিলেট,২০১১