বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

নিমাইকে ঘিরে কিছু প্রশ্ন



সময়টা তখনও দুপুর হয়নি,কৃষক নিমাইকে উষ্কখুষ্ক অবস্থায় মাঠে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কেউ হয়তো তাকে খেয়াল করছে, কেউ হয়তো করছে না। নিমাইয়ের পাশের ক্ষেতে চাষীরা কাজ করছে। এমন কর্মব্যস্ত দিনে নিমাইকে গালে হাত দিয়ে আকাশ পানে চেয়ে থাকতে দেখে কারো মনে হয়তো প্রশ্ন জাগছে, কারো হয়তো জাগছে না। পাশের ক্ষেতগুলোতে  কাজ করছে ভূমিহীন বর্গাচাষী ইদ্রিছ মিয়া,দীর্ঘদেহী সোলায়মান আর প্রাণেশ। তারা কেউ কেউ নিমাইয়ের কুশল জিজ্ঞাসা করে, কেউ করেনা। 

নিমাই একজন বর্গাচাষী এবং অবশ্যই অস্বচ্ছল। অভাব অনটন যে তার এবং তার জাতের নিত্যসঙ্গী তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্গাচাষীদের নিজের জমি থাকে না,অন্যের জমিতে তারা চাষ করে বিনিময়ে অর্ধেক অথবা তিন ভাগের এক ভাগ ফসল পায় এবং তা দিয়ে তাদের সারা বছরের অভাব কোনক্রমেই ঘুচে না। তাদের বছর বছর বংশ বৃদ্ধি পায়, প্রবীন একজনের হয়তো মৃত্যু হয়,যুবক আর কিশোরীদের বিয়ে হয়,যুবতী বোন হয়তো স্বামী পরিত্যাক্তা হয় কিন্তু তিন অক্ষরের অভাবটাই ঘুচে না।

 
নিমাইয়ের ঘরে স্বাভাবিকভাবেই হোক অথবা বাধ্য হয়েই হোক এক বউ। মুসলমান হলেও সে দুই অথবা তিন বউ রাখতে পারত না। এর জন্য আর্থিক সঙ্গতি তো লাগেই শারীরিক সঙ্গতি না থাকলেও বউ পালা যায় না। নিমাইয়ের দ্বিতীয়টা থাকলেও প্রথমটা তার জাত গোষ্ঠীর কারোরই নেই। নিমাইয়ের যে বহুগামীতায় অরুচি নেই,কিন্তু মালের সাথে কড়িও তো থাকতে হবে। এছাড়া নিমাইয়ের ঘরে মা,ছোট বোন তো আছেই। কোনদিন আবার বড় বোনটা বিধবা হয়ে অথবা স্বামী পরিত্যাক্ত হয়ে ফিরে আসে তাও কী নিমাই ভাবছে?

নিমাইকে মাঠে বা ক্ষেতে গালে হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখে চাষীদের কেউ কেউ হয়তো ভাবে তার বউয়ের সাথে ঝগড়া হয়েছে। কেউ হয়তো ভাবে নিমাইয়ের অসুখ করেছে কিংবা গা টা একটু ম্যাজম্যাজ করছে। আসলে নিমাইয়ের কী হয়েছে তা কেউ জানে না, হয়তো কেউ কেউ কিংবা সবাই আন্দাজ করতে পারছে। নিমাই কী আসলে তখন আকাশ দেখছিল নাকি মেঘহীন আকাশে তখন সে স্বপ্ন বুনছিল? নাকি প্রতিনিয়ত যুদ্ধের পূর্বে সে যে প্রস্তুতি নেয় সেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল? নাকি সে ক্রমাগত বিধাতাকে জিজ্ঞেস করছিল কবে সে নিশ্চিন্ত জীবন যাপন করতে পারবে? এরকম অনেক প্রশ্ন আমাদের আর চাষীদের দরজায় কড়া নাড়ে।  

নিমাই সকালে ভরপেট খেতে পারেনি। রুচি হচ্ছিল না বলে নয় কিংবা তাই-ই হতে পারে। অথবা নিমাইয়ের ঘরে চাল,মুড়ি,চিড়া কোনটাই ছিল না।  নিমাইয়ের বউয়ের নাম সীতা। ছোটবেলায় রামায়ন শুনে শুনে নিমাইয়ের চোখে ভাসত যে সীতা ঠিক সেরকমই মায়াবী দেখতে তার সীতা। নদীর জলের মতো স্বচ্ছ চোখ, সারা শরীরে যেন ঢেউ বয়ে যায়,কোমল ঘাড় আর বাহু,পীনোন্নত বুক,বড় নাভিমূল,কমলার কোয়ার মত ঠোট যুগলে হাসি লেগেই থাকে সারাক্ষণ। নিমাই কী এখন বসে বসে সীতার কথাই ভাবছে? নাকি মালতীর কথা? মালতী নিমাইয়ের পিসতুতো বোন। বিয়ের আগে সে মালতীর দিকে তাকাতোই না। কিন্তু যেই মালতীর বিয়ে হয়ে গেল সেই কিশোরী বয়সে তারপর থেকেই নিমাই নিঃসঙ্গ বোধ করতে লাগল। নিমাই তখনো বিয়ে করেনি , বিয়ের মত বয়স অবশ্য হয়নি কিন্তু নারীদেহ চিনতে পারার মত বয়স তার হয়েছিল। বিয়ের পর মালতী বাপের বাড়ি আসত যখন তখন নিমাই খেয়াল করত মালতীকে খুব গভীর ভাবে। প্রতিদিনই যেন মালতীর রূপ বাড়ছে। তার প্রায় অদৃশ্য স্তন দুটি হয়ে যাচ্ছে ডাবের মত যা কয়েকদিন আগেও ছিল বাতাবি লেবু। হয়তো নিমাই এসবের কিছুই ভাবছে না। 

নিমাইয়ের গলায় গামছা,পরনে জীর্ণ একটা লুঙ্গী। মাঠে কাজ করার সময় সে কিছু গায়ে দেয় না  কিন্তু নিমাই তো আজ কোন কাজই করছে না। নিমাই কী ভাবছে তার পুরোনো বন্ধু মিহির মাঝির কথা? মিহির মাঝি গেল বার গাঙে ডুবে মারা গেল তখন নিমাই কী কান্নাটাই না কাঁদল ! অথচ মিহির সাঁতার জানত সবার থেকে ভাল। ছোটবেলা থেকেই নদীতে সাঁতার কাটত। নাকি নিমাই তার বড় মেয়ে শ্যামার কথা ভাবছে যে কিনা এখন সাতে পড়েছে? এতটুকুন মেয়ে অথচ কী সুন্দর চুল ! এতো বড় চুলগুলোকে যখন ও খোপা করে তখন নিমাইয়ের চোখে মায়ের মুখটা ভেসে ওঠে, সে একবার মাকে দেখে আরেকবার মেয়েকে। বয়সের ব্যবধান কত ! অথচ চেহারায় কত মিল ! 

নিমাই আর সীতার যেবার বিয়ে হয়েছিল সেবার প্রচন্ড শীত পড়েছিল । ফুলশয্যার রাতে সীতা ঠকঠক করে কাঁপতে লাগল। নিমাই যেই কুপিটা একটু কমাল সেই সীতার ঠকঠকানি আরো বেড়ে গেল। নিমাই সীতাকে জড়িয়ে ধরে বলল- বউ কাপিসনে,আমি তোকে কামড়াব না। নিমাই কী এখন একটু হাসছে? হয়তো নিমাই এটাও ভাবছে না। আশে পাশের বর্গাচাষীদের কেউ কী খেয়াল করে নিমাই ঘামছে,দরদর করে ঘামছে? হয়তো কেউই খেয়াল করে না। নাকি নিমাই ভাবছে গতরাতের কথা যখন নিমাইয়ের কানে কানে ঘর্মাক্ত ও তৃপ্ত সীতা বলেছিল – আরেকডা ছাওয়াল আইসছে পেটে। নিমাই কী তাই ভাবছে? হয়তো হ্যাঁ অথবা না।    

রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

অনুতাপ- ১

আমার ঘরের জানালায় একদল মেঘ আসে
ওরা যাত্রাবিরতী করে জানালার কার্ণিশে
কথা বলে,গল্প করে
আমাকে শোনায় ওদের পিছনের কথা,
কতটুকু পথ পেরিয়ে এল; সে কথা।
যুবক মেঘ আমায় ডেকে নিমন্ত্রন দেয়-
ওদের সাথে চলবার।
আমি গাঢ় হাসি দেই
ওদের চলবার,ভেসে যাওয়ার গল্প শুনি
আমার কাছে ওরা পঙ্খীরাজে চড়া রাজপুত্তুর।
আমি ঘরের দেয়ালে ওদের কাব্য লিখে দেই
আরো লিখে দেই-
‘আমিও যেতে চাই মেঘদলের সাথে
মেঘকন্যার সাথে,ঐ যুবকটার সাথে’
কিন্তু যেতে পারিনা,পারবনা।
আমাকে কে যেন ধরে রাখে
মনে হয়,কেউ যেন ডানা দিয়ে আঁটকাচ্ছে
আমি বাঁধনহারা হইনা তবুও
হয়তো বেসেছি ভাল অদৃশ্য শেকলটাকে
কিংবা রাঙা মুখ,সুতি শাড়ির আঁচল।

শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৩

মধ্যযুগের আধুনিক শব্দ সৈনিক-তোমাদের অভিবাদন !





আমরা সাফল্যের সাথে পৌঁছে গিয়েছি মধ্যযুগে
আধুনিকতার পোষাক পড়ে।
যেখানে ল্যাপটপ-ডেস্কটপের সাথে ছবি
মাথা নিচু শব্দ সন্ত্রাসী।

আমরা খুঁজে পেয়েছি অনেক অনেক অস্ত্র
আগে অস্ত্র বলতে বুঝাতাম রামদা-চাপাতি কিংবা কালাশনিকভ
এখন অস্ত্র মানে এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক, কিউবির মোডেম।
মাথা নিচু শব্দ সৈনিক।

মাথা থেঁতলে দিল যারা পুলিশের
তারা ধরা পড়ল না।
পুলিশের রেশন বাড়ানো উচিত এমন চিন্তাকারী
ভয়ে উঠে যায় ডিবি'র মাইক্রোতে।

ধরা পড়লনা বাসে যে আগুন লাগালো
ধরা পড়ল সুব্রত শুভ
সমস্ত অশুভ শব্দ উচ্চারণকারী
বিপ্লবদা,জানি উঁনি সদ্যবিবাহিত।

মধ্যযুগে এখন আমরা পাথর ঘষি
নিঃশঙ্কচে মেরে ফেলি আপন প্রজাতির বাইসন
ঘরে এনে পুষতে থাকি
গন্ধে ভরা কতগুলো শেয়াল।

কবির খাতা কবি বেঁচে দিবে
সুব্রতের ল্যাপটপ সুব্রত বেঁচে দিবে
আরজ আলি মাতুব্বর সব বই জ্বালিয়ে দিবে
আমরা ঘুমাবো অবার্চীনের মত,
তুমি পাহারা দিও,গড়ে তোল স্বপ্নের পাক ভূমি।

3 April 2013

রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১২

পঙ্গু রাষ্ট্রের পঙ্গু শত্রু


“ ঝালকাঠীতে র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে পা হারানো কলেজছাত্র লিমন হোসেনের বাবা ,মা ও ভাইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন র‌্যাবের সোর্স হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম হাওলাদার। বৃহস্পতিবার ঝালকাঠী জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে করা এই মামলায় ইব্রাহিম তার শ্যালক ফোরকান হাওলাদারকে হত্যার অভিযোগ এনেছেন, যিনি তিন দিন আগে মারা যান। মামলায় লিমনের বাবা তোফাজ্জেল আকন, মা হেনোয়ারা বেগম ও বড় ভাই সুমন আকনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ঈদের দিন বিকালে লিমন ও তার মায়ের ওপর হামলার অভিযোগে ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাজাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন হেনোয়ারা বেগম। ওই হামলার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে ইব্রাহিমের শ্যালক ফোরকানের (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। তার লাশের ময়নাতদন্তও হয়েছে। লিমনের ভাই ও তার আত্মীয়-স্বজনদের হামলায় ফোরকান মারা গেছেন দাবি করে ইব্রাহিমের স্ত্রী লিলি বেগম মঙ্গলবার থানায় একটি অভিযোগ করলেও পুলিশ তা অপমৃত্যু মামলা হিসাবে গ্রহণ করে।”                                    - সূত্রঃ বিডিনিউজ ২৪ ডট কম।

এখন প্রশ্ন জাগতে পারে কে বা কারা ইব্রাহিমের শ্যালককে হত্যা করল? এটাতে কি আদৌও লিমন বা তার আত্মীয় স্বজনের যোগসাজশ আছে কিনা ? অত্যন্ত হাস্যকর হলেও করুণ যে লিমনের পরিবারের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের হয়েছে। মামলায় আরো আসামী থাকলেও লিমনের পরিবারের তিন সদস্যকেই প্রধান আসামী করা হয়েছে । আরো হাস্যকর, ঘটনার সময় লিমনের মা ও লিমন হাসপাতালে ছিল আর লিমনের বাবা  ছিলেন ঢাকায়। উল্লেখ্য যে, ঈদের দিন বিকালে লিমন ও তার মায়ের উপর হামলা চালায় ইব্রাহিম যে কিনা র‍্যাবের সোর্স এবং একই সাথে স্থানীয় মাস্তান।

গত বছর ঝালকাঠির লিমন মাঠে গরু আনতে গিয়ে লিমন র‍্যাবের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয় এবং একটি পা হারায় । র‍্যাব নামক রাষ্ট্রীয় এই লাঠিয়াল বাহিনী ঐ ঘটনার পরে ক্ষমা প্রার্থনা তো দূরে থাক উল্টো একের পর মিথ্যা মামলা দিতে থাকে লিমন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। লিমন ও তার পরিবারকে দেয়া হচ্ছে হত্যার হুমকি। তাদের বলা হয়েছে মিডিয়ার ফোকাস একটু কমে গেলেই তাদের মেরে ফেলা হবে। এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে সরকার ও রাষ্ট্রের সমর্থনেই এসব হচ্ছে । গণমাধ্যমগুলোতে একের পর এক প্রতিবাদ করার পরও আদালত , রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী কারোরই কোন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না ব্যাপারটায়। এবং রহস্যজনক ভাবে নির্লিপ্ত আমাদের সুশীল সমাজ । যেন আমরা এক মগের মুল্লুকে বাস করছি, দেশটা যেন একটা শিশু পার্ক যে যেমন ইচ্ছে খেলছে !
লিমন ইস্যু এখন কোন এলিট বাহিনীর সাথে কোন সাধারণ নাগরিকের ইস্যু নয়। এটা এখন মানবতার সাথে অমানবিকতার ইস্যু। এটা এখন কোন ব্যক্তিগত বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা রাষ্ট্রের নগ্নতার বহিঃপ্রকাশ । রাষ্ট্র নগ্ন হলেই সম্ভব এমন হীন কাজ করা। রাষ্ট্র দলবাজী,সন্ত্রাসের মদদদাতা হলেই সম্ভব ন্যাংটো হয়ে যুদ্ধ ঘোষণার। যুদ্ধটা কার সাথে? একজন গরিব,রাষ্ট্র দ্বারা পঙ্গু ছেলের সাথে ? নাকি নিজেদের স্বরূপ প্রকাশ হবে বলে অত্যাচারের মাত্রাটা বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে? রাষ্ট্র কি তবে অসহায় ? নাগরিকদের অসহায় করে রাখার মধ্যেই ভঙ্গুর এই রাষ্ট্রের জয় ?

লিমনের স্বপ্ন ছিল, সে সাধারণ ছাত্র। সে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন করত না । সে পড়াশোনা করত, গরিব পরিবারের সন্তান বিধায় তার সুযোগ-সুবিধা কম ছিল। কিন্তু সে কেন রাষ্ট্র কর্তৃক বারবার অপদস্থ হবে, রাষ্ট্রের এই ক্ষমতা কে দিয়েছে ? তাহলে একটি অগণতান্ত্রিক দেশের সাথে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পার্থক্যটা কোথায় ? মহাজোটকে মানুষ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছিল তাদের অপূরণীয় স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে। কিন্তু এটা কী আমাদের স্বপ্ন ছিল ? এই মহাজোট তাদের নির্বাচনি ম্যানুফেস্টুতে বিনাবিচারে হত্যা বন্ধ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই তার প্রতিশ্রুতি !


একজন পঙ্গু নাগরিক যখন রাষ্ট্রের প্রধানতম শত্রু বলে বিবেচিত হয় (অন্তত আচরণে) তখন আমার এই রাষ্ট্র, সরকার, সরকারের সামরিক-আধা সামরিক বাহিনীসহ গোটা রাষ্ট্রকে পঙ্গু বলতে দ্বিধা হয়না। লিমন একজন অসহায় নাগরিক, তাকে সাহায্য বা সাহস দেবার কেউ নেই । কিন্তু তার চেয়েও বড় অসহায় আমাদের বাংলাদেশ নামন রাষ্ট্রটি। মান বাঁচাতে এখন তার জান নিয়ে টান দিতে হচ্ছে। কার জান? – যারা তাদের ক্ষমতা দিয়েছে, স্বপ্ন বাঁচানোর জন্য। এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিচার হবে বলে আশা রাখিনা। বেশিরভাগ রাষ্ট্রীয় অপরাধ-সন্ত্রাসের বিচার হয়না। রাষ্ট্র তখনই পরাক্রমশালী যখন তার নাগরিকদের অধিকার সমুন্নত থাকে,গরিব ও মেহনতি মানুষ সুখে থাকে। আর রাষ্ট্র তখনই পঙ্গু হয় যখন পঙ্গু লিমন তাদের শত্রু হয় ।  

https://www.facebook.com/notes/sayem-choudhury/%E0%A6%AA%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%81-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%81-%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81/10151124076934182
http://www.mongoldhoni.net/2012/08/26/lame-enemy-of-lame-state/

সোমবার, ২৫ জুন, ২০১২

আমার গল্প

আমি একটা গল্প লিখব, যে গল্পে রাজা না খেয়ে মরবে চাষা গোলায় ধান ভরেনি বলে।
আমি একটা গল্প লিখব, যে গল্পে রানী গর্ভবতী হবে কিন্তু তার ছেলে যুবরাজ হবে না।
আমি একটা গল্প লিখব, যে গল্পে মিথ থাকবে,বায়োস্কোপ থাকবে কিন্তু মিথ্যাচার রবে না।
আমি একটা গল্প লিখব, যে গল্পে তরুণী নগ্ন হয়ে পথে নামবে কিন্তু ধর্ষিতা হবে না।
এমন একটা গল্প,এমন একটা গল্প লিখব যার পাঠকেরা হাঁটবে ঘোর লাগা পথে।

আমি একটা শহর বানাবো,যে শহরে বিজলী বাতি থাকবে না
কিন্তু আলোকিত হবে হাজার  মানুষ দ্বারা।

আমি একটি যুদ্ধ সাজাবো, রণকৌশলে কেউ যাবে না মারা।
মানুষের সাথে মানুষ হাঁটবে,নরের সাথে নারী
মতামতে অমত হলেও কেউ নেবে না আড়ি।

আমি একটা মিছিলে স্লোগান দেব,যে মিছিলে থাকবে না কোন দাবী।
শুধু পুষ্প ঝরবে স্লোগানকারীদের মুখ থেকে,
মিছিলে যোগ দিবে সব পাপমোচনকারী পাপী।

আমি একটি নৌকা ভাসাবো, যে নৌকা ঝড়ে পড়লে মাঝি হবে সব যাত্রী।
হাত গুটিয়ে , পা গুটিয়ে কাটাবেনা কেউ রাত্রী ।

বিষাদমুখ,বিষন্নমুখ রবে না নাগরিকের।
আজকেই  হয়তো হবে না  সে গল্প লেখা,
কাজ বাকী আগামীদিনের।

-         সায়েম ,২৩/৬/১২, অকল্যান্ড।



সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১১

কথা, ইচ্ছা আর স্খলনের গল্প

কিছু কাজ করার ছিল, কিছু কথা বলার ছিল।
ছিল ইচ্ছা রিমঝিম বৃষ্টিতে হাঁটার।
ক্লান্ত চোখ যখন ঘুমে আক্রান্ত
তখন কথা ছিল ভালবাসার।
জীবন যখন ভারাক্রান্ত; তখন
কথা ছিল আরো ভার বওয়ার।
দিগন্তের শেষ প্রান্তে কথা ছিল হারিয়ে যাওয়ার।
স্তব্ধ নিঃশ্বাস গুনে গুনে রাখার কথা ছিল
অথবা মধ্যরাতের আকাশের সবগুলো তারা।
ইচ্ছা ছিল নিজের প্রতিবিম্ব আর
মাগুর মাছের ঝোলে ফিরে পাওয়া হারানো আমিকে।
মাটির সোদা গন্ধ নেওয়ারও ইচ্ছা ছিল
সাথে কথা ছিল নগ্ন পায়ে হাঁটা তোমার হাত ধরে।
আয়নার মানুষটার সাথে নিজের মিল খোঁজা,
ছিলনা কাপুরুষ অন্ধকারে হাতরে বেড়ানোর গল্প।
অ-কবির কবি হওয়ার মতোই
আমার মানুষ হবার আকাঙ্খা।

২১/০৭/১১